ExamDAO Logo

ID#11 HSC Bangla 1st CQ (Dhaka 2025)

‘সিডর’-এ সব হারিয়ে কৃষক কেরামত আলী একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলো। কেরামত নিরুপায় হয়ে বন্ধু হাসমত মিয়ার বাড়ি গিয়ে উঠলো সাহায্যের জন্য। বন্ধু তাকে নিরাশ করেনি। সে তাকে এক জোড়া হালের গরু, লাঙল ও জোয়াল কিনতে টাকা দিলো এবং চাষাবাদ আরম্ভ করতে বললো। কেরামত তার বন্ধুর এ সহায়তা পেয়ে প্রচুর পরিশ্রমের ফলে নিজের অবস্থার পরিবর্তন করতে সক্ষম হলো।
ক) একমুষ্ঠি ভিক্ষা দেওয়াকে আমরা কী মনে করো?
খ) “ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ”—ব্যাখ্যা করো।
গ) উদ্দীপকটি ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা করো।
ঘ) “উদ্দীপকের মূলভাব এবং ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের মূলভাব একসূত্রে গাঁথা”—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ব্যাখ্যা

(ক) একমুষ্ঠি ভিক্ষা দেওয়াকে আমরা কী মনে করি?
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধ অনুসারে, একমুষ্ঠি ভিক্ষা দেওয়াকে আমরা সাধারণত মানব-কল্যাণ বলে মনে করি।

(খ) “ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ”—ব্যাখ্যা করো।
উক্তিটি দ্বারা দাতা ও গ্রহীতার মধ্যকার মর্যাদাগত পার্থক্য বোঝানো হয়েছে। যে ব্যক্তি হাত পেতে সাহায্য গ্রহণ করে (নিচের হাত), তার চেয়ে যে ব্যক্তি নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য প্রদান করে (ওপরের হাত), সে সর্বদা শ্রেষ্ঠ। কারণ দাতা তার সামর্থ্য ও মহানুভবতা দিয়ে অন্যের অভাব মোচন করে, যা একটি উচ্চতর মানবিক গুণ। প্রবন্ধকার এখানে বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষকে করুণা করা নয় বরং তাকে স্বাবলম্বী করার মানসিকতা লালনকারী ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার।

(গ) উদ্দীপকটি ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমে প্রকৃত কল্যাণ সাধনের দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

প্রবন্ধকার আবুল ফজল মনে করেন, স্রেফ ভিক্ষা দেওয়া বা করুণা করা প্রকৃত মানব-কল্যাণ নয়। বরং মানুষকে এমনভাবে সাহায্য করা উচিত যাতে তার মানবিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সে ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। উদ্দীপকের হাসমত মিয়া তার বন্ধু কেরামত আলীকে কেবল কিছু খাবার বা তাৎক্ষণিক অর্থ দিয়ে বিদায় করেনি। সে তাকে হালের গরু, লাঙল ও জোয়াল কেনার পুঁজি দিয়েছে, যাতে সে শ্রম দিয়ে নিজের ভাগ্য বদলাতে পারে। হাসমত মিয়ার এই গঠনমূলক সহায়তা প্রবন্ধের সেই আদর্শকে প্রতিফলিত করে, যেখানে বলা হয়েছে—মানুষের অবমাননা নয়, বরং তাকে কর্মক্ষম করে তোলাই প্রকৃত মানবধর্ম।

(ঘ) “উদ্দীপকের মূলভাব এবং ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের মূলভাব একসূত্রে গাঁথা”—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূলসুর মূলত মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও পরনির্ভরশীলতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আবর্তিত, তাই উক্তিটি যথার্থ।

'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন যে, প্রকৃত কল্যাণ কোনো দয়া বা খয়রাত নয়; এটি একটি অবিভাজ্য মানবিক কর্ম। মানুষকে তার দারিদ্র্য বা অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ছোট করা মানব-কল্যাণের পরিপন্থী। লেখকের মতে, মানব-কল্যাণের লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের দৈহিক ও আত্মিক উন্নতি সাধন করা। উদ্দীপকে হাসমত মিয়ার চরিত্রে এই দর্শনেরই বাস্তব রূপায়ণ দেখা যায়। সে কেরামত আলীকে চিরস্থায়ী ভিক্ষুক বা পরনির্ভরশীল হিসেবে না দেখে তাকে উৎপাদনের উপকরণ জোগান দিয়েছে। ফলে কেরামত আলী পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের অবস্থার পরিবর্তন করতে পেরেছে।

উদ্দীপকের এই স্বাবলম্বী হওয়ার প্রক্রিয়া এবং প্রবন্ধের আদর্শ—উভয়ই মানুষের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার এবং তাকে সমাজের বোঝা থেকে সম্পদে রূপান্তর করার কথা বলে। প্রবন্ধে উল্লিখিত 'সুপিরিয়র' বা শ্রেষ্ঠ হওয়ার যে মানদণ্ড (ওপরের হাত), হাসমত মিয়া তা অর্জন করেছে এবং কেরামত আলীকেও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।

পরিশেষে বলা যায়, করুণার পরিবর্তে সহযোগিতার মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা রক্ষা করাই উদ্দীপক ও প্রবন্ধের সাধারণ লক্ষ্য। এই অভিন্ন চেতনার কারণেই বলা যায় যে, এদের মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।
Resource Details
Exam HSC
Subject Bangla 1st paper
Chapter 4
Board Dhaka
Year 2025

Discussion — HSC Bangla 1st CQ (Dhaka 2025)

Join the Discussion!

You must be logged in to post a comment or ask a question.

Sign In to Comment

No discussion yet. Be the first to post a comment!