ExamDAO Logo

ID#15 HSC Bangla 1st CQ (Dhaka 2025)

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা) তায়েফে ইসলাম প্রচার করতে গেলে তায়েফবাসী তাঁর ওপর পাথর নিক্ষেপ করে তাঁকে রক্তাক্ত করে। কিন্তু এত অত্যাচার সহ্য করেও নবিজি তাদের ওপর প্রতিশোধ নেননি। বরং বলেছেন—“এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা করো।”
ক) কবির বুকে যে কবর বেঁধেছে তার বুক তিনি কী দিয়ে ভরেন?
খ) “আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর”—ব্যাখ্যা করো।
গ) উদ্দীপকের সাথে ‘প্রতিদান’ কবিতার কোন বক্তব্যটি সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখো।
ঘ) “একটি সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে ‘প্রতিদান’ কবিতার ভাবার্থ ও উদ্দীপকের ভাবার্থের সমন্বয়সাধন অপরিহার্য”—আলোচনা করো।

ব্যাখ্যা

(ক) কবির বুকে যে কবর বেঁধেছে তার বুক তিনি কী দিয়ে ভরেন?
কবির বুকে যে কবর বেঁধেছে, তার বুক তিনি রঙিন ফুলের মালিকা দিয়ে ভরেন।

(খ) “আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর”—ব্যাখ্যা করো।
উক্তিটি দ্বারা কবির অসীম ক্ষমাশীলতা এবং পরহিতৈষী মানসিকতা প্রকাশ করা হয়েছে। সমাজ জীবনে অনেকে কবিকে পর করে দিয়েছে বা তার সাথে শত্রুতা করেছে। কিন্তু কবি তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ না করে বরং তাদের আপন করে নেওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকেন। কবির মতে, প্রতিহিংসা দিয়ে নয় বরং ভালোবাসা ও উদারতা দিয়ে শত্রুকেও বন্ধুতে রূপান্তর করা সম্ভব। অপকারীর অপকার ভুলে তাকে আপন করার এই মানবিক আকুতিই এখানে ব্যক্ত হয়েছে।

(গ) উদ্দীপকের সাথে ‘প্রতিদান’ কবিতার কোন বক্তব্যটি সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখো।
উদ্দীপকের সাথে ‘প্রতিদান’ কবিতার অনিষ্টকারীর অনিষ্ট না করে বরং তার মঙ্গল কামনা করার মহান বক্তব্যটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি জসীমউদ্‌দীন দেখিয়েছেন যে, কেউ তাকে পর করলে তিনি তাকে আপন করার চেষ্টা করেন, কেউ তার ঘর ভাঙলে তিনি তার ঘর বেঁধে দেন। অর্থাৎ তিনি অনিষ্টকারীর প্রতি কোনো প্রতিশোধ না নিয়ে ভালোবাসার প্রতিদান দেন। উদ্দীপকেও আমরা দেখি, মহানবি (সা) তায়েফে চরমভাবে লাঞ্ছিত ও রক্তাক্ত হওয়ার পরেও তায়েফবাসীদের অভিশাপ দেননি বা প্রতিশোধ নেননি। বরং তাদের ক্ষমা ও জ্ঞানের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন। এই যে মন্দের বিপরীতে ভালো করা এবং শত্রুকে ক্ষমা করার মানসিকতা—এটিই উদ্দীপক ও ‘প্রতিদান’ কবিতার মূল সাদৃশ্যপূর্ণ দিক।

(ঘ) “একটি সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে ‘প্রতিদান’ কবিতার ভাবার্থ ও উদ্দীপকের ভাবার্থের সমন্বয়সাধন অপরিহার্য”—আলোচনা করো।
একটি আদর্শ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে উদ্দীপকের ক্ষমাশীলতা এবং ‘প্রতিদান’ কবিতার পরোপকারী ভাবার্থের সমন্বয়সাধন অনস্বীকার্য।

বর্তমান সমাজে মানুষে মানুষে হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার মনোভাব প্রবল। একজন অন্যের সামান্য ক্ষতি করলে অপরজন তার বড় ক্ষতি করার চেষ্টা করে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। কিন্তু উদ্দীপকে মহানবি (সা)-এর ক্ষমা প্রদর্শন আমাদের শেখায় যে, ধৈর্য ও ক্ষমার মাধ্যমে চরম শত্রুকেও জয় করা সম্ভব। অন্যদিকে, ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে অনিষ্টকারীর প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিতে হয়।

যখন সমাজের প্রতিটি মানুষ ‘মন্দের পরিবর্তে মন্দ’ না করে ‘মন্দের পরিবর্তে ভালো’ করার ব্রত গ্রহণ করবে, তখন সমাজে সংঘাত কমে আসবে। উদ্দীপকের ক্ষমার আদর্শ এবং কবিতার ‘ঘর বাঁধার’ বা ‘উপকার করার’ মানসিকতা একত্রিত হলে সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রতিহিংসার আগুন্নে সমাজকে দগ্ধ না করে ক্ষমার শীতলতা দিয়ে শান্ত রাখাই হলো সুখী সমাজ গড়ার মূলমন্ত্র।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপক ও ‘প্রতিদান’ কবিতা উভয়েরই শিক্ষা হলো—ক্ষমা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। এই দুটি গুণের চর্চা করলে সমাজ থেকে বিশৃঙ্খলা দূর হবে এবং পৃথিবী একটি সুন্দর ও নিরাপদ আবাসে পরিণত হবে।
Resource Details
Exam HSC
Subject Bangla 1st paper
Chapter 16
Board Dhaka
Year 2025

Discussion — HSC Bangla 1st CQ (Dhaka 2025)

Join the Discussion!

You must be logged in to post a comment or ask a question.

Sign In to Comment

No discussion yet. Be the first to post a comment!