ExamDAO Logo

ID#16 HSC Bangla 1st CQ (Dhaka 2025)

নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা হাকিম। জীবন-জীবিকার জন্য সে চলে যায় শহরে। রিকসা চালিয়ে জীবিকা শুরু করলেও অবৈধ ব্যবসার সাথে যুক্ত হয়ে ক্রমেই প্রতিপত্তির মালিক হয়ে অভিজাতদের দলভুক্ত হয়।
ক) “নাফরমানি করিও না”—উক্তিটি কার?
খ) “বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে-চোখ”—ব্যাখ্যা করো।
গ) উদ্দীপকের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখো।
ঘ) “উদ্দীপকের হাকিম এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ উভয়ের মধ্যেই অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত”—তোমার মতামত দাও।

ব্যাখ্যা

(ক) “নাফরমানি করিও না”—উক্তিটি কার?
উক্তিটি 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের।

(খ) “বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে-চোখ”—ব্যাখ্যা করো।
উক্তিটি মজিদের চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং তার আধ্যাত্মিক ভণ্ডামির এক বিশেষ বহিঃপ্রকাশ। মজিদ যখন মহব্বতপুর গ্রামে এসে মাজারের খিদমতের কাজ শুরু করে, তখন সে নিজের চোখের চাহনিকে এমনভাবে তৈরি করে যাতে গ্রামবাসী তাকে পরম ধর্মপ্রাণ ও বিশ্বাসী মনে করে। তার চোখের সেই স্থির ও নিস্পলক দৃষ্টি দেখে সাধারণ মানুষের মনে বিশ্বাস জাগে যে, সে মাজারের অলৌকিক শক্তির সাথে সম্পর্কিত। মূলত ধর্মের আবরণে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য মজিদ যে কৃত্রিম গাম্ভীর্য ও বিশ্বাসের মুখোশ ধারণ করেছিল, তা-ই এই চরণের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।

(গ) উদ্দীপকের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখো।
উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের শেকড়হীন মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

উপন্যাসের মজিদ ছিল উত্তর অঞ্চলের এক শস্যহীন ও অভুক্ত জনপদের মানুষ। সে নিজের জীবন ও জীবিকার তাগিদে ভিটেমাটি ছেড়ে নিরুদ্দেশ যাত্রায় বের হয় এবং শেষ পর্যন্ত মহব্বতপুর গ্রামে এসে মাজারকে কেন্দ্র করে নিজের ভাগ্য গড়ে তোলে। উদ্দীপকের হাকিমও নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে শহরে পাড়ি জমায়। মজিদ যেমন ধর্মের অপব্যবহার করে প্রতিপত্তি লাভ করে, হাকিমও তেমনি অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে বিত্তবান হয়। উভয় চরিত্রই তাদের আদি নিবাস থেকে বিচ্যুত হয়ে নতুন পরিবেশে যে কোনো উপায়ে নিজেদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠা লাভের চেষ্টা করেছে।

(ঘ) “উদ্দীপকের হাকিম এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ উভয়ের মধ্যেই অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত”—তোমার মতামত দাও।
আমি মনে করি মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত, কারণ হাকিম ও মজিদ উভয়েই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে।

অস্তিত্ববাদ অনুসারে, মানুষের অস্তিত্বই তার সারসত্তার আগে। অর্থাৎ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য মানুষ যে পথ বেছে নেয়, তা-ই তার পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়। মজিদ জানত যে মহব্বতপুরে টিকে থাকতে হলে তাকে অলৌকিকতার আশ্রয় নিতে হবে। সে মাজারের ভয় দেখিয়ে এবং ধর্মীয় কুসংস্কার ছড়িয়ে নিজের অন্ন-বস্ত্র ও প্রতিপত্তি নিশ্চিত করেছে। এটি ছিল তার এক প্রকার টিকে থাকার কৌশল।

অন্যদিকে, উদ্দীপকের হাকিম নদীভাঙনে সব হারিয়ে যখন নিঃস্ব হয়, তখন সে রিকশা চালিয়ে জীবিকা শুরু করলেও দ্রুত সচ্ছলতা পেতে অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। হাকিমের এই অবৈধ কাজ এবং মজিদের ধর্মের ভণ্ডামি—উভয়ই নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হলেও তাদের মূল লক্ষ্য ছিল নিজের অস্তিত্বকে সুরক্ষিত করা এবং সমাজতাত্ত্বিক ভাষায় 'Class Climbing' বা উঁচু শ্রেণিতে আরোহণ করা। মজিদ যেমন গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়, হাকিমও তেমনি অভিজাতদের দলভুক্ত হয়।

পরিশেষে বলা যায়, মজিদ ও হাকিম কেউ আদর্শবাদী চরিত্র নয়; বরং তারা সময়ের প্রয়োজনে নিজেদের নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব ও প্রতিপত্তিকে জয়ী করেছে। তাই অস্তিত্ব রক্ষার এই সংগ্রাম ও সফলতা অর্জনের দিক থেকে উভয়ের মধ্যেই অস্তিত্ববাদী চেতনার প্রতিফলন দেখা যায়।
Resource Details
Exam HSC
Subject Bangla 1st paper
Chapter 25
Board Dhaka
Year 2025

Discussion — HSC Bangla 1st CQ (Dhaka 2025)

Join the Discussion!

You must be logged in to post a comment or ask a question.

Sign In to Comment

No discussion yet. Be the first to post a comment!