(ক) ‘বিলাসী’ গল্পের বর্ণনাকারী কে?
‘বিলাসী’ গল্পের বর্ণনাকারী হলেন ন্যাড়া।
(খ) “অন্নপাপ। বাপরে! এর কি আর প্রায়শ্চিত্ত আছে।” — ব্যাখ্যা করো।
উক্তিটি ‘বিলাসী’ গল্পের রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের প্রতিনিধি খুড়োর। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় ভিন্ন জাতের বা অস্পৃশ্য কারোর হাতে অন্ন গ্রহণ করাকে মারাত্মক পাপ হিসেবে গণ্য করা হতো। মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ অবস্থায় জাতহীন সাপুড়ে কন্যা বিলাসীকে বিয়ে করে তার হাতে ভাত খেয়েছিল বলে সমাজ তাকে বিচ্যুত করে দেয়। খুড়োর মতে, এই ‘অন্নপাপ’ এতটাই গুরুতর যে প্রথাগত কোনো প্রায়শ্চিত্তের মাধ্যমেই এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। মূলত জাতপ্রথার অন্ধত্ব ও অনুদার মানসিকতার কারণেই এই উক্তিটি করা হয়েছে।
(গ) উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন দিকটির সাদৃশ্য আছে? বুঝিয়ে লেখো।
উদ্দীপকের চরণে ‘বিলাসী’ গল্পের জাতপ্রথা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির অন্তঃসারশূন্যতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
বিলাসী গল্পে দেখা যায়, মৃত্যুঞ্জয় যখন মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল, তখন তার নিজের জাতের কোনো আত্মীয়-স্বজন তার পাশে দাঁড়ায়নি। কিন্তু নিম্নজাতের মেয়ে বিলাসী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা-শুশ্রূষা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। সমাজ এই সেবাকে বড় করে না দেখে মৃত্যুঞ্জয়ের জাত যাওয়াকেই বড় করে দেখেছে। উদ্দীপকের ‘জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা’ পঙক্তিটি গল্পের এই সংকীর্ণ সমাজব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে। গল্পের খুড়ো এবং সমাজের অন্য ব্যক্তিরা যেভাবে মানুষের জীবনের চেয়ে জাতের মর্যাদাকে বড় করে দেখেছে, উদ্দীপকেও সেই অযৌক্তিক জাত-বিচারের কারখানা নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
(ঘ) “উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
মন্তব্যটি সঠিক, কারণ উদ্দীপকে কেবল জাতপ্রথার সমালোচনা করা হলেও ‘বিলাসী’ গল্পের মূল প্রাণ—মহৎ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং নারীর সেবাময়ী রূপটি এখানে অনুপস্থিত।
উদ্দীপকের মূল ভাব হলো সমাজের মিথ্যা সংস্কার ও জাত-বিচারের ভণ্ডামিকে তুলে ধরা। মানুষ সত্য কাজ বা প্রকৃত কল্যাণে রাজি নয়, বরং অর্থহীন তর্কে লিপ্ত—এই সত্যটিই উদ্দীপকে প্রধান। ‘বিলাসী’ গল্পেও আমরা দেখি, মৃত্যুঞ্জয়কে সাহায্য না করলেও তার জাত মারার জন্য সমাজের মানুষগুলো সদা তৎপর ছিল। এই অংশে উদ্দীপক ও গল্পের মিল রয়েছে।
তবে ‘বিলাসী’ গল্প কেবল সমাজ সমালোচনার নয়, বরং এটি আত্মত্যাগী প্রেমের এক অনন্য উপাখ্যান। বিলাসী যে অমানুষিক পরিশ্রম করে মৃত্যুঞ্জয়কে যমের মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল এবং সমাজচ্যুত হয়েও স্বামীর প্রতি যে আনুগত্য দেখিয়েছে, তা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। গল্পের শেষ পরিণতিতে বিলাসীর আত্মাহুতি বা প্রেমের যে শাশ্বত জয়গান গীত হয়েছে, উদ্দীপকের চার লাইনে তার কোনো রেশ নেই।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকটি কেবল গল্পের রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থার ভণ্ডামিকে ফুটিয়ে তুললেও গল্পের মানবিক আবেদন ও প্রেমের গভীরতাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তাই এতে ‘বিলাসী’ গল্পের আংশিক ভাবই প্রতিফলিত হয়েছে।