(ক) বাষ্পায়ন কী?
যেকোনো তাপমাত্রায় তরলের শুধু উপরিভাগ থেকে ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পায়ন বলে।
(খ) মেঘমুক্ত দিন আরামদায়ক কেন? ব্যাখ্যা কর।
মেঘমুক্ত দিনে আকাশ পরিষ্কার থাকায় ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপ সহজেই মহাশূন্যে চলে যেতে পারে, ফলে পরিবেশ শীতল থাকে।
এছাড়া মেঘমুক্ত দিনে বায়ু সাধারণত অসম্পৃক্ত থাকে, যা শরীর থেকে ঘাম দ্রুত বাষ্পীভূত হতে সাহায্য করে। বাষ্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুপ্ততাপ শরীর থেকে সরবরাহ হওয়ায় আমরা শীতল ও আরাম অনুভব করি।
(গ) বরিশালের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বের কর।
দেওয়া আছে, বায়ুর তাপমাত্রা $T = 25^{\circ}C$
শিশিরাঙ্ক $\theta = 15.5^{\circ}C$
$25^{\circ}C$ এ সম্পৃক্ত জলীয় বাষ্পচাপ, $F = 24 \times 10^{-3}$ mHg
$15^{\circ}C$ এ সম্পৃক্ত জলীয় বাষ্পচাপ = $12.5 \times 10^{-3}$ mHg
$16^{\circ}C$ এ সম্পৃক্ত জলীয় বাষ্পচাপ = $13.63 \times 10^{-3}$ mHg
$15.5^{\circ}C$ তাপমাত্রায় সম্পৃক্ত জলীয় বাষ্পচাপ ($f$):
$f = 12.5 \times 10^{-3} + (13.63 - 12.5) \times 10^{-3} \times (15.5 - 15)$
$f = 12.5 \times 10^{-3} + (1.13 \times 10^{-3} \times 0.5)$
$f = 13.065 \times 10^{-3}$ mHg
আপেক্ষিক আর্দ্রতা, $R = \frac{f}{F} \times 100\%$
$R = \frac{13.065 \times 10^{-3}}{24 \times 10^{-3}} \times 100\%$
$R = 54.44\%$
(ঘ) বরিশাল ও কুয়াকাটার কোথায় শিশির ও কুয়াশা সৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি তা কারণসহ ব্যাখ্যা কর।
শিশির ও কুয়াশা সৃষ্টির জন্য বায়ুর তাপমাত্রা তার শিশিরাঙ্কের নিচে নামা প্রয়োজন।
উদ্দীপক অনুসারে, কুয়াকাটার তাপমাত্রা বরিশালের সমান ($25^{\circ}C$) হওয়া সত্ত্বেও সেখানে আবহাওয়া অস্বস্তিকর ছিল। অস্বস্তিকর লাগার অর্থ হলো কুয়াকাটার বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বরিশালের তুলনায় অনেক বেশি, অর্থাৎ সেখানকার আপেক্ষিক আর্দ্রতা বরিশালের ($54.44\%$) চেয়ে বেশি।
আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি হলে শিশিরাঙ্ক বায়ুর তাপমাত্রার ($25^{\circ}C$) খুব কাছাকাছি থাকে।
রাতের বেলা তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেলেই কুয়াকাটার বায়ু দ্রুত সম্পৃক্ত হয়ে শিশিরাঙ্কে পৌঁছাবে এবং অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে শিশির বা কুয়াশা তৈরি করবে। বরিশালের আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম হওয়ায় সেখানকার শিশিরাঙ্ক ($15.5^{\circ}C$) বায়ুর তাপমাত্রার থেকে অনেক দূরে, ফলে সেখানে বায়ু সম্পৃক্ত হতে তাপমাত্রা অনেক বেশি কমতে হবে।
সুতরাং, কুয়াকাটায় শিশির ও কুয়াশা সৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।