ক) NIC কী?
NIC এর পূর্ণরূপ হলো Network Interface Card। এটি একটি হার্ডওয়্যার ডিভাইস যা কোনো কম্পিউটার বা ল্যাপটপকে একটি নেটওয়ার্কের সাথে ফিজিক্যালভাবে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
খ) গেটওয়েকে প্রটোকল কনভার্টার বলা হয়— ব্যাখ্যা কর।
গেটওয়ে হলো একটি ইন্টার-নেটওয়ার্কিং ডিভাইস যা ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচার এবং প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্ককে একত্রে যুক্ত করে। যেহেতু ভিন্ন প্রোটোকলের নেটওয়ার্ক একে অপরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে না, তাই গেটওয়ে ডেটা প্যাকেটগুলোকে এক প্রোটোকল থেকে অন্য প্রোটোকলে রূপান্তর বা ট্রান্সলেট করে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার কারণেই গেটওয়েকে প্রোটোকল কনভার্টার বলা হয়।
গ) উদ্দীপকের উল্লিখিত নেটওয়ার্ক টপোলজিটির ব্যাখ্যা
উদ্দীপকে তিনটি আট-পোর্টের ডিভাইসের (হাব বা সুইচ) সাহায্যে তিনটি আলাদা LAN তৈরি করে সেগুলোকে পুনরায় ফাইবার অপটিক ক্যাবল দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে। এটি মূলত একটি ট্রি (Tree) টপোলজি-কে নির্দেশ করে।
ব্যাখ্যা:
১. ট্রি টপোলজিতে একাধিক স্টার টপোলজিকে একটি কেন্দ্রীয় বা রুট ডিভাইসের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়।
২. উদ্দীপকের প্রতিটি আট-পোর্টের ডিভাইস একটি করে স্টার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে এবং ফাইবার অপটিক ক্যাবল সেগুলোকে একটি হায়ারার্কিকাল কাঠামোতে নিয়ে এসেছে।
৩. এই টপোলজিতে সহজেই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা সম্ভব এবং শাখাগুলো আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ঘ) উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টিতে অনলাইন সেবামূলক প্রযুক্তির ভূমিকা
উদ্দীপকে বর্ণিত "On Demand" এবং "Pay as you Go" সার্ভিসটি মূলত ক্লাউড কম্পিউটিং (Cloud Computing) প্রযুক্তিকে নির্দেশ করে। উদ্যোক্তাদের জন্য এর গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রাথমিক খরচ হ্রাস: নতুন উদ্যোক্তাদের নিজস্ব সার্ভার বা দামি সফটওয়্যার কেনার প্রয়োজন হয় না। তারা ক্লাউড থেকে সেবা ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারে।
২. Pay as you Go: উদ্যোক্তা যতটুকু রিসোর্স (স্টোরেজ বা ব্যান্ডউইথ) ব্যবহার করবেন, কেবল ততটুকুর জন্যই মূল্য পরিশোধ করবেন। এতে অপচয় রোধ হয়।
৩. Scalability: ব্যবসার আকার বাড়লে মুহূর্তের মধ্যেই ক্লাউড রিসোর্স বাড়ানো সম্ভব, যা প্রথাগত হার্ডওয়্যার সিস্টেমে জটিল ও ব্যয়বহুল।
৪. নিরাপত্তা ও ব্যাকআপ: ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ডেটা ব্যাকআপ ও উন্নত নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়, ফলে ছোট উদ্যোক্তাদের ডেটা হারানোর ভয় থাকে না।
মতামত:
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ক্লাউড কম্পিউটিং উদ্যোক্তাদের মূলধন সাশ্রয় করে এবং ব্যবসায়িক গতিশীলতা বৃদ্ধি করে। এটি ২৪ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উদ্যোক্তাদের সহায়ক ভূমিকা পালন করে।