HOME নেটওয়ার্ক টপোলজি ও ধরন
রহিমের শাখা অফিসের ১০টি কম্পিউটার একটি সার্ভার কম্পিউটারের মাধ্যমে যুক্ত এবং তাঁর মূল অফিসে ৫০টি কম্পিউটার ৫টি সার্ভার কম্পিউটারের মাধ্যমে যুক্ত।
Rajshahi • 2025
ক) পিকোনেট কী?
খ) মোবাইল ফোনকে সেলুলার ফোনও বলে- ব্যাখ্যা কর।
গ) উদ্দীপকে শাখা অফিসের নেটওয়ার্ক টপোলজিটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ) সার্ভিস প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো অনুযায়ী উদ্দীপকের নেটওয়ার্কের ধরন উল্লেখপূর্বক তুলনামূলক আলোচনা কর।

সমাধান (Solution)

ক) পিকোনেট কী?
ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে গঠিত পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ককে (PAN) পিকোনেট বলা হয়। একটি পিকোনেটে একটি মাস্টার ডিভাইসের অধীনে সর্বোচ্চ ৭টি স্লেভ ডিভাইস যুক্ত থাকতে পারে।

খ) মোবাইল ফোনকে সেলুলার ফোনও বলে— ব্যাখ্যা কর।
মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থায় পুরো নেটওয়ার্ক অঞ্চলকে অনেকগুলো ছোট ছোট ভৌগোলিক এলাকায় ভাগ করা হয়, যার প্রতিটি ভাগকে 'সেল' (Cell) বলা হয়। প্রতিটি সেলে একটি করে বেস স্টেশন বা টাওয়ার থাকে যা ওই এলাকার সংকেত আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু এই যোগাযোগ ব্যবস্থাটি ছোট ছোট সেলের সমন্বয়ে গঠিত, তাই মোবাইল ফোনকে সেলুলার ফোনও বলা হয়।

গ) উদ্দীপকে শাখা অফিসের নেটওয়ার্ক টপোলজি ব্যাখ্যা
উদ্দীপকে রহিমের শাখা অফিসের ১০টি কম্পিউটার একটি মাত্র সার্ভার কম্পিউটারের মাধ্যমে যুক্ত। এটি মূলত স্টার (Star) টপোলজি-কে নির্দেশ করে।

ব্যাখ্যা:
১. স্টার টপোলজিতে একটি কেন্দ্রীয় হাব, সুইচ বা সার্ভারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সকল কম্পিউটার বা নোড যুক্ত থাকে।
২. শাখা অফিসের ক্ষেত্রে সার্ভারটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে কাজ করছে।
৩. এখানে কোনো একটি কম্পিউটার নষ্ট হলেও পুরো নেটওয়ার্ক সচল থাকে, তবে কেন্দ্রীয় সার্ভারটি নষ্ট হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে।
৪. নতুন কম্পিউটার যুক্ত করা বা কোনো কম্পিউটার সরিয়ে ফেলা এই টপোলজিতে বেশ সহজ।

ঘ) সার্ভিস প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো অনুযায়ী নেটওয়ার্কের ধরনের তুলনামূলক আলোচনা
সার্ভিস প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো অনুযায়ী রহিমের শাখা অফিসের নেটওয়ার্কটি হলো ক্লায়েন্ট-সার্ভার (Client-Server) এবং মূল অফিসের নেটওয়ার্কটি হলো মাল্টি-সার্ভার বা হাইব্রিড (Hybrid/Enterprise) নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত। নিচে এদের তুলনা দেওয়া হলো:

বৈশিষ্ট্যশাখা অফিসের নেটওয়ার্ক (ক্লায়েন্ট-সার্ভার)মূল অফিসের নেটওয়ার্ক (মাল্টি-সার্ভার)
সার্ভার সংখ্যাএকটি মাত্র ডেডিকেটেড সার্ভার থাকে।একাধিক (উদ্দীপকে ৫টি) সার্ভার ব্যবহৃত হয়।
লোড ব্যালেন্সিংসব চাপ একটি সার্ভারের ওপর থাকে, ফলে ধীরগতি হতে পারে।কাজের চাপ ৫টি সার্ভারের মধ্যে ভাগ হয়ে যায় (Load Balancing)।
নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত কিন্তু সিঙ্গেল পয়েন্ট ফেইলিউর ঝুঁকি থাকে।অধিকতর নিরাপদ এবং একটি সার্ভার নষ্ট হলেও অন্যগুলো সচল থাকে।
উপযোগিতাস্বল্প সংখ্যক কম্পিউটারের জন্য সাশ্রয়ী।বৃহৎ পরিসরে এবং উচ্চ গতির ডেটা আদান-প্রদানের জন্য উপযোগী।
বিশ্লেষণ:
শাখা অফিসের নেটওয়ার্কটি ছোট হওয়ায় একটি সার্ভার দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। তবে মূল অফিসে ৫০টি কম্পিউটারের জন্য ৫টি সার্ভার ব্যবহারের ফলে কাজের গতি এবং নির্ভরযোগ্যতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একাধিক সার্ভার ব্যবহারের মাধ্যমেই রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এবং ডেটা ব্যাকআপ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।