HOME তারবিহীন সংযোগ ও নেটওয়ার্ক
'ক' একটি ল্যাপটপ কিনল, সে মোবাইল ও ল্যাপটপের মধ্যে তারবিহীন সংযোগ স্থাপন করল। একটা দুর্ঘটনার সংবাদ শুনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তার বন্ধুর কাছে সংবাদটি সম্পর্কে জানতে চাইল।
Jessore • 2025
ক) কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কী?
খ) “সুইচের বুদ্ধিমত্তা রয়েছে”— বুঝিয়ে লিখ।
গ) উদ্দীপকে তারবিহীন সংযোগ বর্ণনা কর।
ঘ) উদ্দীপকে 'ক' এর বন্ধুর সাথে যোগাযোগের উপযুক্ত পদ্ধতি যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।

সমাধান (Solution)

ক) কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কী?
দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে কোনো যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে একসাথে জুড়ে দিলে যদি তারা নিজেদের মধ্যে তথ্য বা উপাত্ত আদান-প্রদান করতে পারে, তবে তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে।

খ) “সুইচের বুদ্ধিমত্তা রয়েছে”— বুঝিয়ে লেখ।
নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় ডিভাইস হিসেবে হাবের তুলনায় সুইচ অনেক বেশি বুদ্ধিমান। হাবের কাছে কোনো তথ্য আসলে সেটি নেটওয়ার্কের সব কম্পিউটারে পাঠিয়ে দেয় (ব্রডকাস্ট), কারণ এটি কার কাছে তথ্য পাঠাতে হবে তা শনাক্ত করতে পারে না। কিন্তু সুইচের একটি 'ম্যাক অ্যাড্রেস টেবিল' থাকে, যার মাধ্যমে সে প্রতিটি কম্পিউটারের সুনির্দিষ্ট অ্যাড্রেস মনে রাখতে পারে। ফলে সুইচ কেবল সঠিক গন্তব্য কম্পিউটারেই ডেটা পাঠায়, যা নেটওয়ার্ক ট্রাফিক কমায় এবং নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে। এ কারণেই বলা হয় সুইচের বুদ্ধিমত্তা রয়েছে।


গ) উদ্দীপকে তারবিহীন সংযোগ বর্ণনা করো।
উদ্দীপকে 'ক' তার মোবাইল ও ল্যাপটপের মধ্যে যে তারবিহীন সংযোগ স্থাপন করেছে, সেটি হলো ব্লুটুথ (Bluetooth) প্রযুক্তি।

ব্যাখ্যা: এটি একটি স্বল্প দূরত্বের (সাধারণত ১০ থেকে ১০০ মিটার) তারবিহীন ডেটা আদান-প্রদান পদ্ধতি। ব্লুটুথ প্রযুক্তি রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে কাজ করে এবং এর মাধ্যমে খুব সহজেই ব্যক্তিগত ডিভাইসগুলোর মধ্যে একটি পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN) তৈরি করা যায়। এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. এটি ২.৪ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে।
২. এতে ডেটা ট্রান্সফার রেট তুলনামূলক কম হলেও খুব সহজেই সংযোগ স্থাপন করা যায়।
৩. কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং কোনো বাহ্যিক ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয় না।

ঘ) উদ্দীপকে 'ক' এর বন্ধুর সাথে যোগাযোগের উপযুক্ত পদ্ধতি বিশ্লেষণ।
উদ্দীপকে 'ক' ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর যোগাযোগ পদ্ধতি। এর উপযুক্ততার কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. সরাসরি দৃশ্যমানতা: ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে 'ক' তার বন্ধুকে সরাসরি দেখতে পাবে, যা সংবাদের গুরুত্ব এবং বন্ধুর প্রতিক্রিয়া বুঝতে সাহায্য করবে।
২. বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা: এটি কেবল অডিওর তুলনায় অনেক বেশি প্রাণবন্ত। যেহেতু এটি একটি দুর্ঘটনার সংবাদ, তাই ভিডিও কলের মাধ্যমে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও পরিস্থিতির গভীরতা সহজে প্রকাশ পায়।
৩. দ্রুত তথ্য বিনিময়: ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুহূর্তেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে উচ্চমানের ভিডিও এবং অডিও আদান-প্রদান করা সম্ভব।
৪. অ্যাপ্লিকেশন ও সফটওয়্যার: বর্তমানে জুম (Zoom), গুগল মিট (Google Meet) বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো উন্নত সফটওয়্যার ব্যবহার করে খুব কম ব্যান্ডউইথ খরচ করেও এই যোগাযোগ সম্পন্ন করা যায়।
সিদ্ধান্ত: পরিশেষে বলা যায়, দুর্ঘটনার মতো জরুরি বা সংবেদনশীল সংবাদ দ্রুত ও স্পষ্টভাবে আদান-প্রদানের জন্য ভিডিও কনফারেন্সিং বা ভিডিও কলিং পদ্ধতিটিই সবচেয়ে উপযুক্ত ও আধুনিক।