সারাদেশে বাসা-বাড়িসহ অফিস আদালতে EMI প্রভাবমুক্ত ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে ৮০২.১১ স্ট্যান্ডার্ডের প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে পার্বত্য অঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকাতে টাওয়ার বসিয়ে তারবিহীন মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হচ্ছে।
Comilla• 2025
ক) প্রাইভেট নেটওয়ার্ক কী?
খ) সর্বোচ্চ ৮টি ডিভাইস নিয়ে গঠিত নেটওয়ার্কটি ব্যাখ্যা কর।
গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্যাবলটির গঠন বর্ণনা কর।
ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রযুক্তির সাথে পার্বত্য অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা প্রদানে ব্যবহৃত প্রযুক্তির তুলনামূলক আলোচনা কর।
ক) প্রাইভেট নেটওয়ার্ক কী?
প্রাইভেট নেটওয়ার্ক হলো এমন একটি ব্যক্তিগত বা অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক যা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার নিজস্ব ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়। এখানে বাইরের কোনো ব্যবহারকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে পারে না।
খ) সর্বোচ্চ ৮টি ডিভাইস নিয়ে গঠিত নেটওয়ার্কটি ব্যাখ্যা কর।
সর্বোচ্চ ৮টি ডিভাইস নিয়ে গঠিত নেটওয়ার্কটি হলো পিকোনেট (Piconet), যা ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়।
ব্যাখ্যা:
১. পিকোনেট হলো একটি পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN)।
২. এতে একটি মাস্টার (Master) ডিভাইসের অধীনে সর্বোচ্চ ৭টি স্লেভ (Slave) ডিভাইস সক্রিয় থাকতে পারে।
৩. মাস্টার ডিভাইসটি ডেটা ট্রান্সমিশন নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্লেভ ডিভাইসগুলো মাস্টারের নির্দেশে কাজ করে।
৪. এটি স্বল্প দূরত্বে (সাধারণত ১০-১০০ মিটার) তারবিহীন ডেটা আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়।
গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্যাবলটির গঠন বর্ণনা কর।
উদ্দীপকে EMI (Electromagnetic Interference) প্রভাবমুক্ত যে ক্যাবলের কথা বলা হয়েছে, সেটি হলো ফাইবার অপটিক ক্যাবল। গঠন বর্ণনা:
১. কোর (Core): এটি ক্যাবলের কেন্দ্রীয় অংশ যা কাঁচ বা স্বচ্ছ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। এর ভেতর দিয়ে ডেটা আলোক সিগন্যাল হিসেবে পরিবাহিত হয়।
২. ক্ল্যাডিং (Cladding): কোরকে ঘিরে থাকা কাঁচের স্তর। এর প্রতিসরণাঙ্ক কোরের চেয়ে কম হওয়ায় আলোক সিগন্যাল পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে এগিয়ে যায়।
৩. জ্যাকেট (Jacket): এটি ক্যাবলের বাইরের আবরণ যা পুরো ক্যাবলকে বাহ্যিক চাপ এবং বৈরি পরিবেশ থেকে সুরক্ষা দেয়।
ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তিদ্বয়ের তুলনামূলক আলোচনা
উদ্দীপকে মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত '৮০২.১১ স্ট্যান্ডার্ডের প্রযুক্তি' হলো Wi-Fi এবং পার্বত্য অঞ্চলে ব্যবহৃত উচ্চগতির তারবিহীন প্রযুক্তিটি হলো WiMAX (IEEE 802.16 স্ট্যান্ডার্ড)। নিচে এদের তুলনা দেওয়া হলো:
বৈশিষ্ট্য
Wi-Fi (IEEE 802.11)
WiMAX (IEEE 802.16)
কভারেজ এলাকা
সীমিত পরিসর (১০০-২০০ মিটার)। মূলত একটি ভবন বা কক্ষের জন্য।
বিশাল এলাকা (১০-৫০ কিমি)। পুরো শহর বা দুর্গম এলাকায় সেবা দিতে পারে।
ডেটা ট্রান্সমিশন
এটি মূলত WLAN তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
এটি মূলত WMAN বা ব্রডব্যান্ড এক্সেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ব্যান্ডউইথ
গতি ১১ Mbps থেকে ৫৪ Mbps বা তার বেশি হতে পারে।
গতি সাধারণত ৭০ Mbps থেকে ১ Gbps পর্যন্ত হতে পারে।
খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ
খরচ অনেক কম এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরা সহজেই ব্যবহার করতে পারে।
ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা টাওয়ার বসানোর খরচ অনেক বেশি।
বিশ্লেষণ:
বাসা-বাড়িতে মোবাইল ব্যবহারের জন্য Wi-Fi আদর্শ কারণ এটি সাশ্রয়ী এবং ইনডোর ব্যবহারের উপযোগী। অন্যদিকে, পার্বত্য অঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় যেখানে তার বিছানো সম্ভব নয়, সেখানে WiMAX টাওয়ারের মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্বে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া অধিক কার্যকর। অর্থাৎ, এলাকা এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রযুক্তি দুটি একে অপরের পরিপূরক।